ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ , ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​দূর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগকারী আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষকে ফেরাতে বিএনপি এমপির ডিও লেটার: বিতর্ক ও সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-১৫ ১২:৩১:০৫
​দূর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগকারী আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষকে ফেরাতে বিএনপি এমপির ডিও লেটার: বিতর্ক ও সমালোচনা ​দূর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগকারী আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষকে ফেরাতে বিএনপি এমপির ডিও লেটার: বিতর্ক ও সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও ইসলামপুর গুনাইহাটি ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মোঃ ওসমান গণি দূর্নীতির দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তবে তাকে পুনর্বহালসহ বেতন-ভাতা প্রদান ও স্ব-শরীরে কাজে ফিরে আসার সহায়তা চেয়ে স্থানীয় বিএনপি সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল আজিজ একটি ডিও (আধা সরকারি পত্র) লেটার প্রদান করেছেন। গত মঙ্গলবার (৫ মে) প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বরাবর ওই ডিও লেটার প্রদান করেন।
মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে সহকারী মৌলভী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ওসমান গণি। ২০১৫ সালে তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নেন। পদে যোগদানের পর থেকেই অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়ে ঘুষ গ্রহণ তার নিত্য প্রক্রিয়া ছিল।
জুলাই বিপ্লবের পর সরকারের পরিবর্তনের পর ক্ষতিগ্রস্থ ভুক্তভোগিরা অধ্যক্ষ ওসমান গণির উপর প্রায় ২০ লাখ টাকা ফেরতের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে সেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পরে ১৯ জন শিক্ষক ও ৭ জন কর্মচারী জেলা প্রশাসকের কাছে ১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে অভিযোগ ও বিচার চেয়ে আবেদন করেন। একই সঙ্গে অনুলিপি মাদরাসা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। তদন্ত ও বিচার কার্য এখনও চলমান।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. তসলিম উদ্দীন জানান, “দূর্নীতিসহ নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ মোঃ ওসমান গণি পদত্যাগ করেছেন। অভিযোগ এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। তারপরও গভর্নিং বডি যদি তাঁকে পুনর্বহাল করতে চায়, তা করতে পারেন। আমার ব্যক্তিগত মতামত নেই।”
পদত্যাগকারী অধ্যক্ষ মোঃ ওসমান গণি বলেন, “এক সময় এলাকাবাসি ক্ষুব্ধ ছিলেন। এখন তারা চাইছেন আমি ফিরে আসি। মাদরাসা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ও ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে। তাই আমি ফিরে যেতে আগ্রহী।”
উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মতিউর রহমান সুমন বলেন, অধ্যক্ষ ওসমান গণি উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
বর্তমান সভাপতি ও নাটোরের এডিএম মোঃ আরিফ হোসেন বলেন, “অধ্যক্ষ ওসমান গণি তার বিরুদ্ধে দায়ের অভিযোগের প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই আমি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।” স্থানীয় এমপির ডিও লেটার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিএনপি দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আব্দুল আজিজ বলেন, “অধ্যক্ষ মোঃ ওসমান গণি মাদরাসা অধিদপ্তর থেকে পূর্ণবহাল সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ আবেদন করেছেন। তাই আমি একটি ডিও লেটার দিয়েছি।”

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ